উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে মালয়েশিয়া

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। মাল্টিমিডিয়া, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে অনেক শিক্ষার্থী ছুটছে এশিয়ার ইউরোপ খ্যাত দেশ মালয়েশিয়ায়।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশটির শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সর্বস্তরে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশের মতোই ধর্মীয় আচার-আচরণ, পরিবেশ এবং আবহাওয়া হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মত দেশের বিভিন্ন নামী দামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শাখা খুলেছে দেশটিতে। এছাড়াও মালয়েশীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে একযোগে কোর্স পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

শুধু জনশক্তি রপ্তানিই নয়, দেশটিতে রয়েছে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সেখানেই ভালো কিছু করার সুযোগ। পাশাপাশি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরও সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশিদের।

মালয়েশিয়ার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সর্ম্পকে কিছু তথ্য-

* ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া (ইউটিএম)
ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য মালয়েশিয়ার সবচেয়ে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া (ইউটিএম)। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের বুয়েট নামে খ্যাত এই ইউনিভার্সিটি ১৯০৪ সালে যাত্রা শুরু করে ১৯৭৫ সালে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্ব রাংকিংয়ে ২৫৩ স্থানে অবস্থানকারী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর গবেষণা করছে বাংলাদেশের বুয়েট থেকে পাশ করা অনেক শিক্ষার্থী। স্বল্প খরচে ইঞ্জিনিয়ারিং এ ক্যারিয়ার গড়তে এটি হতে পারে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ।

সিঙ্গাপুর সীমান্তবর্তী শহর জোহর বারুতে ২৪ হাজার একরের উপর প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে মনে হবে এ যেন গোটা এক শহর। একাডেমীক ভবনের নির্মানশৈলী ছাত্র ছাত্রী ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে বিশ্বের শতাধিক দেশের ২৫ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে প্রতি সেমিস্টারে খরচ হবে ১ লাখ টাকার কমবেশি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘ওয়াশিংটন একর্ড’ অনুসরণ করার ফলে বিশ্বের যেকোনো দেশে তাদের সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

* ইন্টার ন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম)
আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মুহম্মদ এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’র সমন্বয়ে ১৯৮৩ সালে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের গোম্বাকে প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (আইআইইউএম)। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীর সমাহারে নির্মিত ক্যাম্পাসটি ৭০০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বে ব্যাপক সুনাম অর্জনকারী এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়ন করছে প্রায় ১৩৫টি দেশের শিক্ষার্থীরা।

মালয়েশিয়ার এ বিশ্ববিদ্যালটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক (৭ শতাধিক) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে মেট্রো রেল ব্যবস্থাসহ ইউনিভার্সিটির রয়েছে উন্নতমানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। আইসিটি, বিবিএ, সিএসই, ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার এন্ড ইনভারমেন্টাল ডিজাইন, আইন, হিউম্যান সাইন্স, ইকোনমিক্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট সাইন্স, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি, ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড ম্যানেজমেন্ট, মেডিসিন, ফার্মাসি, নার্সিং, ডেন্টাল ইত্যাদি বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

* ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (ইউপিএম)
মালয়েশিয়ার টপ রিসার্চ গভ. বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (ইউপিএম)। ১৯৩১ সালে স্কুল অব এগ্রিকালচার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি ড. মাহাথির মুহাম্মদ ১৯৯৭ সালে ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া (ইউপিএম) নামকরণ করেন। এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি হিসেবে খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়া যায় কম্পিউটার সাইন্স, আইসিটি, বিবিএ, ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষাসহ আরও অনেক বিষয়ে।

কুয়ালালামপুরের অদূরে সেরদাংয়ের বিনতুলুতে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছে বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী। লাল, সাদা ও সবুজ রঙের মিশ্রণে একাডেমিক ভবনগুলো দৃশ্যমান সকলের নজর কাড়ে। মালয়েশিয়ার এই টপ ইননোভ্যাটিভ ইউনিভার্সিটির শিক্ষা ব্যয় সাধ্যের মধ্যেই। চার বছরে মোট আটটি সেমিস্টারের প্রতিটাতে টিউশন ফি দিতে হবে ৭ থেকে ৮ হাজার রিংগিত।

* মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি (এমএমইউ)
মালয়েশিয়ার যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে মুখিয়ে থাকেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি (এমএমইউ)। এই মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করলেই চাকরি মেলে বিশ্বের বিখ্যাত সব আইটি কোম্পানিতে। ইউনেস্কো এর এক জরিপে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয়েছে, বিশ্বের ১১তম ‘দ্য মোস্ট প্রিপারেবল ডেসটিনেশন ফর হায়ার এডুকেশন’।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি বিশ্ব দুয়ারে ক্রমশ আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে ২০১৪ সালে এশিয়ার বেস্ট প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরস্কার অর্জন করে। মালয়েশিয়ার একমাত্র গভ. লিংক বিশ্ববিদ্যালয়টি আধুনিক মায়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মুহম্মদের পরিকল্পনায় ১৯৯৬ সালে সাইন্সসিটি খ্যাত সাইবারজায়াতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টি নোকিয়া, ইনটেল, মাইক্রোসফট, সিসকো, মটোরোলা, এরিক্সন, হুয়াই এর পার্টনার। বিশ্বের শীর্ষ এই ইন্ডাষ্ট্রিগুলোর নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় রেখে এমএমইউ’র সিলেবাস সাজানো হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা সহজে প্রযুক্তিরক্ষেত্রে সর্বদা উদ্ভাবনী শক্তি অর্জন করে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যয় একটু বেশি হলেও কোয়ালিটি এডুকেশন এর ব্যাপরে শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় তারা।

মালয়েশিয়ার এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি ও সহায়ক তথ্য সেবা দেয়া হচ্ছে ঢাকা থেকেও (এখানে লিংক)। ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মনোনীত প্রতিনিধিরা নানারকম সেবা দিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীদের।

     More News Of This Category