বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে রক্তদানেই শ্রদ্ধা জানাবেন ভারতীয়রা

ধীনতার শুভেচ্ছা৷ সেই শুভেচ্ছা নিয়ে কলকাতা থেকে কয়েকজন হেঁটে ঢাকা যাচ্ছেন৷ তাঁদের লক্ষ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আগে পৌঁছে যাওয়া৷ শ্রদ্ধা নিবেদন করে আবার তাঁরা ভারতে ফিরে যাবেন৷

এদের সবার গায়ে ভারতীয় জাতীয় পতাকার রঙে তৈরি গেঞ্জি। এই পোশাকেই তাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন করবেন৷

মু্ক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার পাশে দাঁড়িয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের৷ প্রবল লড়াইতে মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি শহিদ হন ভারতীয় সেনা জওয়ানরাও৷ সব শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই কলকাতা থেকে হেঁটে ঢাকায় আসছেন ভারতীয় প্রতিনিধিরা৷ এই দলে আছেন কলকাতার ক্ষুদিরাম বোস সেন্ট্রাল কলেজের ২০ জন৷

এদের মধ্যে ৮ জন শিক্ষক আর ১২ জন পড়ুয়া৷ গত শুক্রবার কলকাতা থেকে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। শনিবার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেট্রাপোল(উত্তর ২৪ পরগনা) পেরিয়ে এই দলটি প্রবেশ করে বেনাপোলে(যশোর)৷ সেখান থেকে তাঁরা ঢাকায় যাবেন৷

২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস৷ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকায় পাক সেনা শুরু করেছিল গণহত্যা৷ গ্রেফতার করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে৷ তিনি যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন সেটি ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কলুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত করা হয়৷

এই ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তান বিরোধী মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান৷ দিনটি ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হত বাংলাদেশে৷ পরে ১৯৮০ সালের ২৬ শে মার্চ থেকে দিনটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷

ভারতীয় দলটির সহায়ক সদস্য সুখেন মণ্ডল বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্ষুদিরাম বোস সেন্ট্রাল কলেজের হীরকজয়ন্তী এবং মৈত্রী দেশ এই কর্মসূচির আয়োজক। কলেজের অধ্যক্ষ সুবীর কুমার দত্ত প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে আছেন।

সুখেন মণ্ডল আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে মৈত্রী গড়ে তুলতেই তাঁদের এই কর্মসূচি। ২৬ মার্চ তাঁরা ঢাকায় পৌঁছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তাঁরা একাত্তরের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হবেন। সেখানে রক্ত দেওয়ার ইচ্ছা আছে। সেটা অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এরপর তাঁরা ভারতে ফিরে যাবেন।

     More News Of This Category